কুমিল্লা নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড শাকতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ৩ আগষ্ট সোমবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল মাওয়াকে বেধড়ক মারধর করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আফরোজা বেগম।
ছাত্রীকে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রীর মা তাসলিমা আক্তার ও পিতা আব্দুল কুদ্দুস।
বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ করা হয়।স্কুল শিক্ষিকা আফরোজা বেগমের স্থায়ী কর্মস্থল সদর দক্ষিণ থানার ভল্লবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এক বছরের জন্য সংযুক্তি হয়ে এসেছিলেন শাকতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিন্তু গত ১৫ জুলাই এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরেও ফিরেননি নিজ স্থায়ী কর্মস্থলে। অভিযোগ রয়েছে অধিকাংশ সময়ে সময়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন এই শিক্ষিকা।
কথিত আছে বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনসহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরীর প্রভাব খাটান এই শিক্ষিকা।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায় এক অভিভাবক বলেন প্রায় সময়ই কারণে-অকারণে আফরোজা মেডাম বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি একাধিকবার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবহিত করেছি। এই আফরোজা মেডামকে অতিদ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত বলেও অভিভাবক মনে করেন।
ছাত্রীর গায়ে হাত তোলা ও বেধর মারধর করায় জনমনে ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা দেখা দেয়। এ বিষয়ে সচেতন মহলও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সুজন এর সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের নিকট বাচ্চাদের মানুষ করার জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু বাচ্চাদের সাথে কোনভাবেই অশালীন আচরণ কাম্য নয়। শাসনের জায়গায় নির্যাতন তা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষক- শিক্ষিকার নিকট সর্বদা আমরা ভালো আচরণ আশা করি ছাত্র -ছাত্রীদের প্রতি।
মানবাধিকার কর্মী শামীম আহমেদ বলেন আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে যেই সমস্ত অভিযোগ শুনেছি তা নিন্দনীয় এবং তিনি অপরাধ করেছেন। ২য় শ্রেণীর ছোট্ট একটি বাচ্চার উপর নির্যাতন মানেই কঠিন অপরাধ তিনি করেছেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাকে তার নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ঘটনাটির বিষয়ে একাধিকবার স্কুল শিক্ষিকা আফরোজা বেগমের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।