September 14, 2026, 4:31 am

ছুটির দিনে বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ, সাংবাদিকদের বাধার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 9, 2026
  • 41 Time View

সরকারি ছুটির দিনে বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বালাম ও রেজিস্ট্রার খাতায় কাজ চলার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা, হুমকি-ধমকি এবং মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কার্যালয়ের গেট বন্ধ করে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।

গত শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের পুরান থানা এলাকার জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজ জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, সরকারি ছুটির দিনে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গোপনে কিছু কাজ চলছে। বিষয়টি জানতে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি রাসেল শিকদার, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি ইব্রাহিম সোহেল, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি কাশেম হাওলাদার এবং দৈনিক ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি জুলহাস মিয়াসহ ঘটনাস্থলে যান।

সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে কার্যালয়ের কেচি গেট খোলা দেখতে পান। পরে ভবনের তৃতীয় তলায় নকলখানায় গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ২৫-৩০ জনকে বালাম ও রেজিস্ট্রার খাতাসহ বিভিন্ন নথি নিয়ে কাজ করতে দেখা যায় বলে দাবি করেন তারা।

এ সময় সাংবাদিকরা বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্রের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।

পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ শুরু করলে সদর উপজেলার এজলাসে মাস্টাররোলে কর্মরত বাশার খান সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি নিজেকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দোসর ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কার্যালয়ের একাধিক কর্মরত ব্যক্তি বাশার খানকে তার আচরণ সংযত করার চেষ্টা করেন।

এদিকে, সরকারি ছুটির দিনে নকলখানায় বালাম ও রেজিস্ট্রার খাতায় কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড কিপার সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত বা ‘অনিয়ম’ হিসেবে স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্র বলেন, “বন্ধের দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। তবে অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই সরকারি বন্ধের দিনে বালামে কাজ করা যাবে না।”

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং সরকারি ছুটির দিনে বালাম ও রেজিস্ট্রার খাতায় কাজ করার অনুমোদন ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution