দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে আবারও ডাকাত আতঙ্ক ফিরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়ার দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় থেকে নেমে আসা মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত সড়কে পেরেকযুক্ত গাছের গুঁড়ি ও পেরেক ছড়িয়ে যানবাহনের গতি থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। এ সময় ‘পালকি’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতদল এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে এক পথচারীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে দুর্বৃত্তরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোয় মহাসড়কে এমন ডাকাতির চেষ্টা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগের ভয়াবহ সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পানেরছড়া, খুনিয়াপালং, রাবেতা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, থাইংখালী ও হোয়াইক্যং এলাকায় দিনের বেলা ও রাতের আঁধারে একাধিক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটত। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি, চিহ্নিত ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সেনা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে মহাসড়কে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। এতে গত প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে উখিয়া-টেকনাফ মহাসড়কে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
তবে সর্বশেষ এ ঘটনায় জননিরাপত্তা ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উখিয়া-টেকনাফবাসী দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লুট এবং ঘটনার অন্যান্য তথ্য স্থানীয়দের দাবি ও প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে যুক্ত করা হবে।