September 14, 2026, 4:58 am

নদীভাঙনের শঙ্কায় সঞ্চয়ের টাকায় কেনা জমি দখলের অভিযোগ, বিপাকে জেলে পরিবার

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, August 1, 2026
  • 11 Time View

নদীগর্ভে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে অন্যত্র জমি কিনে বসবাস শুরু করেছিলেন এক জেলে পরিবার। কিন্তু প্রায় ২১ বছর ধরে বসবাস করা সেই জমি নিয়েই এবার দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

ঘটনাটি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের।
ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ হিরন বেগম (৫৫) জানান, তাঁর স্বামী আশরাফ আলী সরদার (৬২) পেশায় একজন জেলে। তাঁদের বাড়ি উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকায়। নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ২০০৫ সালসহ বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে বাবার বাড়ির পাশেই প্রায় ২৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে পরিবারটি সেখানে বসবাস করে আসছে। তাঁদের দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে।

পরিবারটির অভিযোগ, সম্প্রতি পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সিদ্দিক বয়াতী (৬০) ও মো. মোতালেব শেখ (৫৮) ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলাও দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তাতে সাড়া দেননি।

পরে গত ২৮ জুলাই রাতে সিদ্দিক বয়াতী ও মোতালেব শেখসহ ১০ থেকে ১৫ জন লোক জমির বেড়া ভেঙে সেখানে একটি পুরোনো দোকানঘর স্থাপন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ নিয়ে ভুক্তভোগী হিরন বেগম এর ভাই ও পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো: হারুন অর রশিদ মির বাদী হয়ে এবং ইন্দুরকানী থানায় অভিযুক্ত দুজনসহ ১৫জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হিরন বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, নদীতে ঘরবাড়ী সব ভাইঙ্গা যাইতেছে। মুই ৬-৭ ডা মাইয়া পোলা লোইয়া থাহি মেলা কষ্টে। মেলা কষ্ট কইরা কিছু টাহা জোমাইয়া এই জাগাডু কিন্না কোন রহমের এক্খান ঘর বানাইয়া থাহা শুরু হরছিলাম। কিন্তু ম্যালা বছর পর এহন মোগো বাঁধা দেয়, মোরা কিছু কোইলে মোগো মারতে আয়। আম্মেগো কাছে বিচার দিলাম, মোরে এট্টু থাহার জায়গা কইরা দেন।

ভুক্তভোগীর ভাই অবসরপ্রপ্ত শিক্ষক মো: হারুন অর রশিদ মির বলেন, আমার এই অসহায় বোনের জন্য এই জমিটা কিনে দিয়েছি আজ প্রায় ২১-২২ বছর। নদীর পারে এদের ঘর ছিল সেখানে জমিজমা নদীতে ভেঙে গেছে। এখানে ছিল ডোবা ও খাল, এগুলো বালি দিয়ে ভরাট করে দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে কাটা তারের বেড়া দিয়েছি। এই বেড়া গুলো সিদ্দিক বয়াতী ও মো. মোতালেব শেখসহ বেশকিছু লোক মিলে ভেঙে নিয়ে যায় এবং অন্য জায়গার একটি দোকানঘর এনে এখানে স্থাপন করেন। আমাদের দলিলসহ সকল কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও, মিথ্যা মামলাসহ জমি দখলের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই জমাদ্দার বলেন, এখানে এই জেলে পরিবারের লোকজন বেড়া দিয়েছি সেগুলো ভেঙে নিয়ে গেছে। এবং রাতে একটি ভাঙা পুরোনো দোকানঘর এই জমিতে এনে রেখে দিয়েছে। আমরা থানায় জানিয়েছি, প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. সিদ্দিক বয়াতী ও মো. মোতালেব শেখ বলেন, আমরা বেড়া ভাঙ্গিনি মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু আমরা জমি পাবো এজন্য এখানে দোকান এনে রাখছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম বয়াতী বলেন, আমার জানা মতে একই অংশীদার থেকে দুই-তিন পক্ষ জমি কিনেছে বিভিন্ন সময়ে। সিদ্দিক বয়াতীও এখান থেকে জমি দাবী করতেছে, এজন্য সে এক রাতের মধ্যে এই জমিতে একটি দোকান এনে রেখেছে। এটা অনিয়ম হয়েছে, এই জমিটি হিরন বেগমের। তবে এটা সমাধান হওয়া উচিত।

বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ইতিমধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানানো হয়েছে। দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করবো।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে কেনা বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিরোধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution