September 14, 2026, 4:49 am

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে নারী কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 9, 2026
  • 25 Time View

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এক নারী কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তাকে ছয় অঙ্কের ‘বিদায়ী অর্থ’ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উয়েফা। তবে ওই অর্থ দেওয়ার সময় তা সংস্থাটির তৎকালীন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ প্রথম দাবি করে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারী জুনিয়র কর্মীর ‘সম্পর্ক’ ছিল। পরে ওই নারীকে বেশি বেতনের ব্যবস্থাপনা পদে উন্নীত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সময় তাকে অর্থ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তার এমবিএ কোর্সের খরচও উয়েফা বহন করেছিল বলে জানায় পত্রিকাটি। তবে ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সংস্থাটি বলেছে, ‘ওই সময় বিদায়ী কর্মীদের জন্য যে নিয়ম ছিল, অর্থ প্রদানটি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।’ তবে ২০১৬ সালের পর এসব নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে এবং বর্তমানে সব পর্যায়ের কর্মীর জন্য আধুনিক ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের উপযোগী বিধিমালা কার্যকর রয়েছে।

সিএনএনকে দেওয়া বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, ওই ব্যক্তিকে চাকরি ছাড়ার সময় একটি অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের ফিও দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে ইনফান্তিনো অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। ফিফার এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। অনৈতিক আচরণ বা বিধি লঙ্ঘনের কোনো ইঙ্গিতকে মানহানিকর বলেও উল্লেখ করেছে ফিফা।

ইনফান্তিনোকে ঘিরে এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত কিছু অধিকার বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা ও উয়েফার মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। পরিকল্পনাটি পরে বাতিল করা হলেও উয়েফা ফিফার নেতৃত্বে আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছে।

এদিকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শনিবার এক বিবৃতিতে ফিফার ‘সংবিধান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা’ পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছে।

ফিফা বলেছে, তাদের সভাপতি ও সংস্থাকে দুর্বল করার জন্য কিছু পক্ষ সমন্বিতভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈধ নজরদারিকে স্বাগত জানালেও তথ্য বিকৃত করা বা প্রমাণহীন অভিযোগ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

উয়েফার এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ পুরুষ ও নারী ফুটবলের বর্তমান শীর্ষ ১০ দলের তালিকায় থাকা ছয়টি দল উয়েফার সদস্য দেশগুলোর।

অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফিফার অর্থের ওপর অন্যান্য মহাদেশীয় সংস্থার তুলনায় বেশি নির্ভরশীল সিএএফ।

ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রোও জানিয়েছে, ফিফার নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা ‘মৌলিকভাবে ভেঙে গেছে’। তবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আগাম কোনো বিশেষ কংগ্রেস ডাকার উদ্যোগকে সমর্থন করছে না। সংস্থাটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী বছরের শুরুতে ফিফা সভাপতি নির্বাচনের পক্ষে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution