September 14, 2026, 4:59 am

মরক্কো থেকে স্পেনে সীমান্ত অতিক্রম সাগরে প্রাণ গেল ৫৭ জনের

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, August 1, 2026
  • 11 Time View

২৪ ঘণ্টায় কয়েক হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়।

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে এক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পেন সরকার জানিয়েছে, মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সিউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস ৩৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সিউতা সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশ করেছেন। অনেকে সমুদ্রে সাঁতরে সীমান্তের বেড়া ঘুরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে সীমান্তে ভিড় ঠেকাতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করেছে এবং লোকজনকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সংঘর্ষে কয়েকটি গাড়ি ও একটি বাসে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, মানবপাচারকারী চক্র স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ায় এত মানুষ সীমান্তে জড়ো হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার সিউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, সীমান্তে পৌঁছানো অভিবাসীদের দ্রুত মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সিউতায় দায়িত্বরত সিভিল গার্ড সদস্যদের প্রতিনিধি রাশিদ সিবিহি বলেন, এটি একটি গুরুতর মানবিক সংকট। হাজারো মানুষ, যার মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে, খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। তিনি জানান, নিহতদের অনেকেই সাগরে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া তারাখাল সমুদ্রসৈকতের সীমান্ত এলাকায় হুড়োহুড়ির সময়ও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীরা এ ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অধিকাংশ অভিবাসী ওই আদালতের রায় সম্পর্কে জানতেনই না।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম না মেনে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। একই সঙ্গে বিপজ্জনকভাবে সীমান্ত পার হওয়া বন্ধ, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পেনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্সও স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
এছাড়া ফ্রান্স স্পেন সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে।
সিউতার আঞ্চলিক সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এবং সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন। যদিও ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থলসীমান্ত নেই।তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution