এই ব্যাপারে ছহীহুল বুখারী শরীফের ৪৯১০নং হাদীস শরীফের ব্যাখা প্রসঙ্গে আলোচনা।
ছহীহুল বুখারী শরীফ কিতাবের ২য় খন্ড ৭৬৪পৃষ্ঠার ৪৯১০নং হাদীস শরীফের শেষাংশে বর্নিত রয়েছে
قَالَ عُرْوَةُ: وَثُوَيْبَةُ مَوْلَاةٌ لِأَبِي لَهَبٍ، كَانَ أَبُو لَهَبٍ أَعْتَقَهَا، فَأَرْضَعَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا مَاتَ أَبُو لَهَبٍ أُرِيَهُ بَعْضُ أَهْلِهِ بِشَرِّ حِيبَةٍ، قَالَ لَهُ: مَاذَا لَقِيتَ؟ قَالَ أَبُو لَهَبٍ: لَمْ أَلْقَ بَعْدَكُمْ خَيْرًا، غَيْرَ أَنِّي سُقِيتُ فِي هَذِهِ بِعَتَاقَتِي ثُوَيْبَةَ.
অর্থ- হযরত উরওয়াহ বলেন- ছুওয়াইবা ছিল আবু লাহাবের দাসী। (নবীজির মীলাদ শরীফ তথা জম্নের খবর শুনে খুশী হয়ে) আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল। আবু লাহাব যখন মারা গেল তখন তার জনৈক আত্বীয় তাকে স্বপ্নে ভীষন খারাপ অবস্থায় দেখতে পেল এবং জিগেস করলো? তোমার সাথে (কবরের মধ্যে) এখন কিরুপ আচরন করা হচ্ছে? আবু লাহাব বললো- যখন হতে তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি (কবরের মধ্যে) ভীষন আযাবে লিপ্ত আছি। কিন্তু ছুওয়াইবাকে মুক্ত করার কারনে আমাকে পানি পান করতে দেওয়া হচ্ছে।
এই হাদীস শরীফের ব্যাখা প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ তিনি তার ফাতহুল বারী শরহে বুখারী কিতাবে এবং আল্লামা ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রহিমাহুল্লাহ তিনি উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী কিতাবের ২য় খন্ড ৯৫পৃষ্ঠায় লিখেছেন-
أَنَّ الْعَبَّاسَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: لَمَّا مَاتَ أَبُو لَهَبٍ رَأَيْتُهُ فِي مَنَامِي بَعْدَ حَوْلٍ فِي شَرِّ حَالٍ، فَقَالَ: مَا لَقِيتُ بَعْدَكُمْ رَاحَةً، إِلَّا أَنَّ الْعَذَابَ يُخَفَّفُ عَنِّي كُلَّ يَوْمِ اثْنَيْنِ، قَالَ: ذَلِكَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وُلِدَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَكَانَتْ ثُوَيْبَةُ بَشَّرَتْ أَبَا لَهَبٍ بِمَوْلِدِهِ، فَأَعْتَقَهَا
অর্থ- হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন- আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর
আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি যে, সে খুব খারাপ অবস্থায়
আছে। অতঃপর সে বলল- তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি কোন শান্তি পাইনি। তবে প্রতি সোমবার আমার শাস্তি কিছুটা কমানো হয়। কারন নবীজিপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সোমবারে মীলাদ শরীফ তথা জন্ম গ্রহন করেছেন। আর আবু লাহাবের দাসী ছুওয়াইবা নবীজিপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম গ্রহণের সুসংবাদ আবু লাহাবকে দিলে সে তাকে খুশী হয়ে মুক্ত করে দিয়েছিল।
এখন কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে, কাফিরদের তো নেককাজের কোনো প্রতিদান পরকালে দেওয়া হবেনা কারন তাদের ঈমান নেই। তাহলে আবু লাহাবকে সৎকাজের প্রতিদান কিভাবে দেওয়া হল?
এর জবাবে আল্লামা ইমাম কিরমানী রহিমাহুল্লাহ তিনি বলেন-
الْعَمَلُ الصَّالِحُ وَالْخَيْرُ الَّذِي يَتَعَلَّقُ بِالرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَخْصُوصٌ فِي ذَلِكَ، كَمَا أَنَّ أَبَا طَالِبٍ أَيْضًا يَنْتَفِعُ بِتَخْفِيفِ الْعَذَابِ.
অর্থ- কাফিরদের সৎকাজ যেগুলো রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত,
সেগুলোর প্রতিদান দেওয়া হয় যেমন আবু তালিব
(নবীজির খেদমত করার কারণে) কম শাস্তি ভোগের
মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে।
ঐ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনুয জাযরী রহিমাহুল্লাহ তিনি বলেন-
فَإِذَا كَانَ أَبُو لَهَبٍ الْكَافِرُ الَّذِي نَزَلَ الْقُرْآنُ بِذَمِّهِ، جُوزِيَ فِي النَّارِ بِفَرْحَةِ لَيْلَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَا حَالُ الْمُسْلِمِ الْمُوَحِّدِ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَشْرِهِ مَوْلِدَهُ، وَبَذْلِ مَا تَصِلُ إِلَيْهِ قُدْرَتُهُ فِي مَحَبَّتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ لَعَمْرِي، إِنَّمَا يَكُونُ جَزَاؤُهُ مِنَ اللَّهِ الْكَرِيمِ أَنْ يُدْخِلَهُ بِفَضْلِهِ جَنَّاتِ النَّعِيمِ.
অর্থ- কাফির আবু লাহাব যার নিন্দায় ক্বুরআন শরীফের একটি সুরা (সুরা লাহাব) অবতীর্ন
হয়েছে। সে যদি নবীজির আগমন বা জম্নের খুশী উদযাপন করার কারনে কবরে কম
শাস্তি ভোগ করে, তাহলে উম্মতে মুহাম্মাদীর
মধ্যে সে মুসলিম ব্যক্তির কী প্রতিদান
হতে পারে? যে নবীজির আগমনে খুশী উদযাপন করে বা পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করে এবং এই উপলক্ষে নবীজির মহব্বতে তার সামর্থ অনুযায়ী খরচ
করে। নিশ্চই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তার প্রতিদান হচ্ছে, আল্লাহপাক তাকে জান্নাতুন নায়ীমে প্রবেশ করাবেন। সুবহানাল্লাহ ।