পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৭ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) রহিম কাজীর বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক বাল্যবিবাহ পড়ানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আইনের চোখ ফাঁকি দিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের তথ্য সাধারণ বালামে না রেখে গোপন বালাম বইয়ে আলাদা করে লিখে রাখার মতো গুরুতর অনিয়মের কথা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সেই তথ্য মূল বালামে তুলে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ধাওয়া ইউনিয়নের সোহাগ ও জান্নাতি নামের এক কিশোর-কিশোরীর বিয়ে পড়ান এই কাজী। ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল এই বিয়ের রেজিস্ট্রি করা হয়। এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ভুক্তভোগী জান্নাতির মায়ের বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি জানান, বিয়ের সময় তার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। কাজীর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কাজী রহিম কাজী নিজেই তাদের বাড়িতে এসে এই বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করেন।
এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টুলুর আমলেও এই কাজী সাহেব এমন অনেক বাল্যবিবাহ গোপনে পড়িয়েছেন, যা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী রহিম কাজীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সুনির্দিষ্ট কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে এই নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা আরও বেড়ে যাবে।