September 14, 2026, 5:01 am

শিবগঞ্জ সমাজসেবা অফিসের নাম ভাঙিয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, কর্মকর্তার দাবি—‘চিনি না’

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, August 6, 2026
  • 9 Time View

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় সমাজসেবা অফিসের নাম ব্যবহার করে প্রতিবন্ধী ভাতা ও স্মার্ট কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অসহায় মানুষের কাছ থেকে জনপ্রতি ১১ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মোসা. রেহেনা বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাতা করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ও ৩ নম্বর দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের লোকজন আড়গাড়াহাটে ব্যাংক এশিয়ার মার্চেন্ট শাখায় ভিড় করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল।

ভুক্তভোগীরা প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকলেও পরে দাবি করেন, পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন রেহেনা বেগম ও তার স্বামী। রেহেনা বেগম মোবারকপুর ইউনিয়নের মাইজদি গ্রামের বাসিন্দা এবং ইন্টুর স্ত্রী।
এ বিষয়ে রেহেনা বেগমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার পরিচয় রয়েছে।

মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোসা. নূরজাহান বেগম বলেন, “রেহেনা বেগমের শ্বশুর একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যাতায়াত করেন এবং অফিসের অনেকের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে।”
আড়গাড়াহাটে ব্যাংক এশিয়ার মার্চেন্ট এজেন্ট মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “আমার শাখায় হঠাৎ নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০ জন নারীকে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জনের ব্যাংক হিসাব খোলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে রেহেনা বেগমসহ বাকিরা সেখান থেকে চলে যান।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজে এবং আমার অফিসের কর্মচারীরা রেহেনা বেগম নামে কাউকে চিনি না।” তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রেহেনা বেগম নিয়মিত সমাজসেবা অফিসে যাতায়াত করেন।

সমাজসেবা কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমার অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যাকে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা চেনেন না বলে দাবি করছেন, তিনি কীভাবে সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন? এই অভিযোগের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি তুলেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেক দরিদ্র পরিবার ধারদেনা করে অর্থ দিয়েছেন। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

প্রতিবেদকের মন্তব্য: এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution