চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরখানাই ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজী বাড়ি এলাকায় কলা পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মোহাম্মদ তোহা (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মোহাম্মদ তোহা উপজেলার চরখানাই এলাকার বাসিন্দা এবং আবুল বশরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কলা পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মোহাম্মদ তোহাকে টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পরে ধাক্কা ও মারধরের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত পটিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় মেয়ে অভিযোগ করেন, তার বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে তর্কে জড়িয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান।
নিহতের ছোট মেয়ে মারিয়া বলেন, “আমার বাবার হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
নিহতের ভাগিনা শওকত মোরশেদ জানান, আনোয়ার ও বাবুল নামে দুই ব্যক্তি গাছ থেকে কলা নামাচ্ছিলেন। তিনি বাধা দিলে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তিনি তার মামা মোহাম্মদ তোহাকে ঘটনাস্থলে ডাকেন। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।