September 14, 2026, 5:09 am

তেঁতুলিয়া নদীতে তীব্র নাব্যতা সংকট, ব্যাহত নৌচলাচল ও ইলিশ আহরণ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 2, 2026
  • 20 Time View

পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ব্যাপক পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে বিশাল ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে লঞ্চ, কার্গো ও পণ্যবাহী ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম ইলিশসমৃদ্ধ এ নদীতে মাছের উৎপাদন ও আহরণ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো জেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দর, কালাইয়া লঞ্চঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-কালাইয়া ও কালাইয়া-লালমোহন নৌ-রুট। প্রতিদিন এই নৌপথে শত শত যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নদীতে ড্রেজিং না হওয়ায় পলি জমে বিভিন্ন স্থানে চর ও ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নৌযান চালকদের অভিযোগ, অনেক স্থানে নাব্যতা এতটাই কমে গেছে যে বড় লঞ্চ ও কার্গোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নৌযান চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও সময় ও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, তেঁতুলিয়া নদী ইলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও আহরণ এলাকা হওয়ায় নাব্যতা সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, নদীতে চর জেগে ওঠায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আগের মতো মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে ধারদেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্ষা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় তারা হতাশ।

নাজিরপুর এলাকা থেকে লালমোহনগামী ট্রলারগুলোকে বর্ষা মৌসুমেও নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।

ওই লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. হানিফ বলেন, “একসময় ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের এই নৌরুটে অসংখ্য স্টেশন ছিল। এখন নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পরিদর্শন করে আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কালাইয়া বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে দ্রুত নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, নৌযান মালিক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত তেঁতুলিয়া নদীতে খনন (ড্রেজিং) কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং মৎস্যসম্পদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তেঁতুলিয়া নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে সমীক্ষা পরিচালনা করে স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, “তেতুলিয়া নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে কালাইয়া বন্দর ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution