September 14, 2026, 4:51 am

ভোলার চরফ্যাশন স্বামী হত্যার বিচার ও একটি চাকরি চান জুলাই শহীদের স্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 9, 2026
  • 34 Time View

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার দ্রুত বিচার, দোষীদের শাস্তি এবং শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী স্বজনরা। বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলার তদন্ত ও বিচার চললেও দৃশ্যমান ন্যায়বিচার এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ও নজরুল নগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জুলাই শহীদ হাসনাইনের স্ত্রী মাইসা আক্তার রুমা বেগম স্বামীর হত্যার বিচার এবং নিজের জন্য একটি সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছেন।

রুমা জানান, হাসনাইন ঢাকার রায়েরবাজারে একটি ডিজিটাল কেবল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ১৮ মাস বয়সী মেয়ে রাইসাকে আদর করে বাসা থেকে বের হন তিনি। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে যান। পরে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ রোডে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে তার মাত্র দুই বছরের সংসার ছিল। বর্তমানে প্রায় চার বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে নিয়ে বাবার বাড়ি ভোলার ইলিশা ইউনিয়নের চরকালফুরা গ্রামে বসবাস করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু সহায়তা পেলেও তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংসার চালানো সম্ভব নয়

রুমার ভাষ্য, তার মেয়ের জন্য শিক্ষা ভাতা এবং নিজের জন্য একটি চাকরি প্রয়োজন। তিনি এসএসসি পাস করেছেন। চাকরি পেলে সন্তানকে নিয়ে অন্তত ন্যূনতমভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন। তিনি জানান, ছোট্ট মেয়েটি প্রতিদিন বাবাকে খুঁজে কাঁদে, কিন্তু সেই শূন্যতা আর পূরণ হওয়ার নয়।

হাসনাইনের মা হাসিনা বেগম বলেন, ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালাতেন। বড় ছেলে হাসনাইন নিহত হওয়ার পর এখন ছোট ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে মানুষের বাসায় কাজ করে কোনোমতে জীবন চলছে। তিনি ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং শহীদ পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা দাবি করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসনাইনের গ্রামের বাড়ির ভিটা এখন প্রায় পরিত্যক্ত। সেখানে শুধু হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করা হচ্ছে। এছাড়া তার কবরের ফলকে শহীদ হওয়ার স্থান হিসেবে ভুলবশত মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ রোডের পরিবর্তে যাত্রাবাড়ী লেখা রয়েছে।

একই উপজেলার রসুলপুর ভাসানচর এলাকার আরেক জুলাই শহীদ বাহাদুর হোসেন মনির। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভাটারা নতুন বাজারের বাঁশতলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিহত হন তিনি।

মনিরের মামা জানান, আন্দোলনের সময় গুলির মধ্যে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও বুকে গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। লাশ গ্রামে আনার পর তৎকালীন স্থানীয় প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফন নিয়েও বাধা, হয়রানি এবং হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution