October 30, 2026, 2:17 am

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রাষ্ট্রপরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 16, 2026
  • 47 Time View

আসসালামু আলাইকুম।

উপস্থিত প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

ঠিক একমাস আগে সরকারের ১৮০ দিন বা ৬ মাস উপলক্ষ্যে আমরা সবাই এখানে একত্রিত হয়েছিলাম। এখন গত এক মাসে সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়ে আবারও একসঙ্গে হতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের উপস্থিতির জন্য জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আজকের এই প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করার জন্য প্রেস টিমের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী, গতিশীল ও জনবান্ধব নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সময় অত্যন্ত সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে চলেছে। গত এক মাস ধরে সরকারের যে বহুমুখী, কল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হয়ে চলেছে, তা কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার সাফল্য নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়েছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগ অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পথযাত্রা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশের ২১টি প্রধান ব্যবসা ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের একাংশের সাথে মতবিনিময় করেছেন এবং সেখানে তিনি গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, কাজেও তা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করেন, তাঁর কার্যকর নির্দেশনায় আজ আবারও প্রমাণিত। গতকাল থেকেই গ্যাসের দৃশ্যমান উন্নতি আমরা দেখতে পাচ্ছি এবং সামনের দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে একটি সুখবর দিতে চাচ্ছি যে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিংস সংস্থা মুডিস এর রেটিং এ বাংলাদেশেকে নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা, বৈদেশিক বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সর্বোপরি নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক অগ্রযাত্রা সাধিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে মূল্যস্ফীতিতে ইতিবাচক স্বস্তি ফিরেছে। বিবিএসের হিসাবে, খাদ্যপণ্যের দাম কমায় আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে গত বছরের চেয়ে এ বছর অনেক কম। মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের জোগান গতবছরের তুলনায় ভালো। আর বিশেষভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং আশেপাশের যে কোন দেশের তুলনায় ডিজেল তেলের দাম বাংলাদেশে কম। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যেন জনগণের উপর চাপ না পরে।

গত এক মাসে নির্বাচিত সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের এসব কল্যাণকর উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে আমরা সাতটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি- ১. তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, ২. গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, ৩. নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা। ৪. পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন ৫. আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য ৬. যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ৭. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।

 

১. তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন

• দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় ৫০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি উদ্যোগ’ চালু, যার অধীনে প্রতি বছর ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণকে প্রারম্ভিক মূলধন সহায়তা প্রদান করা হবে।
• জামানত ছাড়াই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল চ্যানেলে সুদমুক্ত ‘ই লোন’ সুবিধা চালু।
• টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত তরুণদের জন্য দেশব্যাপী অনলাইন স্টার্ট আপ তহবিলের উন্মুক্ত সুযোগ।
• তরুণ উদ্ভাবকদের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সাথে সরাসরি যুক্ত করতে জাতীয় ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার’ আয়োজন।
• সাইবার সুরক্ষায় দেশে ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম’ এবং ‘জাতীয় আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম’ কার্যক্রম শুরু।
• স্থানীয় কারখানায় সাশ্রয়ী আধুনিক স্মার্টফোন উৎপাদনে বিশেষ নীতিগত প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ। ৫ কোটি মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষিশ্রমিক, কৃষক ও রিকশাচালকসহ একদম প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্টফোনের কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার প্রাথমিক লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
• বিশ্বমঞ্চে তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী করতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে সকলের জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
• প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে নতুন দুটি করে মোট চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন।
• প্রায় ৪৫ লাখ মানুষকে বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা দিতে দেশব্যাপী আধুনিক ‘আলফা’ প্রকল্প গ্রহণ।
• কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে চীনের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন ও ৩টি প্ল্যাটফর্ম চালু।
• কক্সবাজারে সমুদ্রসম্পদ ও ব্লু ইকোনমি গবেষণায় বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
• উচ্চশিক্ষার সুযোগে প্রতি বছর ৫০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শতভাগ সৌদি সরকারি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান দ্বার উন্মোচন।
• মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার শীর্ষ মেধাবীদের স্বীকৃতি ও উপহার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতী ছাত্রীদের মেধার ভিত্তিতে সাইকেল প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত।
• কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতে ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে বিনামূল্যে সুষম দুপুরের খাবারের রূপরেখা প্রণয়ন।
• মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে ঘোষিত ‘১৫ অনুশাসন’ বাস্তবায়ন এবং বছরব্যাপী খেলাধুলা ও সহশিক্ষা পরিচালনায় নির্দেশনা জারি।
• দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
• দেশের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত সরকারি জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বরাদ্দের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ।
• অচল ৮ হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি পার্ক কার্যকর করতে শিল্প ও বাণিজ্যের সমন্বয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু।

২. বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন

• সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তিতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার ‘জাতীয় পে স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন।
• সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সমহারে প্রাতিষ্ঠানিক মোবাইল ভাতার সুবিধা সম্প্রসারণ।
• অবসরপ্রাপ্তদের নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং তাঁদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা।
• দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ ও নবায়নে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার।
• ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদে একই কর্মস্থলে পদায়ন সম্পূর্ণ বন্ধকরণের সিদ্ধান্ত।
• সম্পত্তি দান করার পরেও বাবা মায়ের আজীবন ভোগ দখল ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুরক্ষা আইন পাস।
• ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে দেশের সেরা ১০০ জন মেধাবী শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে বিশেষ জাতীয় অর্থ পুরস্কার উদ্যোগ গ্রহন।
• সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকার স্থায়ী তহবিলে রূপান্তর।
• প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার নিরাপত্তায় দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ইমাম মুয়াজ্জিনদের নিয়মিত সরকারি ভাতার সম্প্রসারণ।
• ঢাকার তিন বস্তি কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা পুনর্বাসনে চীনের ১০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নে ২০ তলা আধুনিক ভবনে বিনামূল্যে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাবনা।
• মিলানের আন্তর্জাতিক সোর্সিং মেলা ‘রেডি টু শো’তে বাংলাদেশের বিভিন্ন পোশাক ও টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানের সফল অংশগ্রহণ, “মেইড ইন বাংলাদেশ” বাংলাদেশ পরিচয় বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করা।
• নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ভবিষ্যতে রপ্তানির লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান।
• গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভ্যাকসিনের সফল প্রয়োগ।
• প্রাণিসম্পদ সেবায় প্রতিটি ইউনিয়নে ৪ জন এবং উপজেলায় ১ জন করে সরকারি পশু চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান।
• বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ের অর্ধশত পাড়ায় আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা।
• রাজধানী ঢাকায় ১৫টি আধুনিক রাইডসহ কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক বিশ্বমানের আদলে সংস্কার করে আগামী জুনের মধ্যে উন্মুক্তকরণের পরিকল্পনা।
• ৪১ দেশে এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা নিয়ে প্রবাসীদের জন্য আরো সেবাবান্ধব ও সহজীকরণের উদ্যোগ।

 

৩. নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা

• সাইবার পরিসরে নারীদের হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সাথে যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের উদ্যোগ।
• প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ নারী শিক্ষার্থীর সার্বজনীন উপবৃত্তি এবং স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের স্থায়ী নিশ্চয়তা বিধা্নের উদ্যোগ।
• চা শিল্পে কর্মরত নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ২০ হাজার চা শ্রমিকের মাঝে আধুনিক রেইনকোট বিতরণ।
• প্রবাসে কর্মরত লাখো নারী ও পুরুষ শ্রমিকের আইনি সুরক্ষায় ১৩টি দেশের শীর্ষ ২২টি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থার সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর।
• মানবিক বিবেচনায় কারাগারের বন্দিদের সাথে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত নিরাপদ ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ ব্যবস্থা প্রবর্তন।
• মানবিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ফিল্ড ফায়ারিং দুর্ঘটনায় আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে সশরীরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উপস্থিতি ও খোঁজখবর গ্রহণ।
• চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

৪. পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, কৃষি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন

• গ্যাস সংকট স্থায়ী সমাধানে মধ্যমেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কার্যক্রম শুরু এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ।
• এলএনজি খালাস সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান ২টি এফএসআরইউ পর্যায়ক্রমে ৫টিতে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা, ২০২৮ এর আগেই ৩য় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য।
• জ্বালানি সংকট নিরসনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিস থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন।
• দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রাপ্তি।
• বিদ্যুৎ খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে জাতীয় গ্রিডে স্থগিত থাকা ১,০৪৬.৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুনরায় সরবরাহ শুরু।
• শিল্প ও কৃষির বিকাশে দ্বীপজেলা ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বৃহৎ সার কারখানা স্থাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
• পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে নতুন ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্তকরণ।
• কৃষকের সেচ খরচ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আগামী ৫ বছরে দেশের সকল ডিজেলচালিত সেচপাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা।
• রাঙ্গামাটির বিদ্যুৎহীন ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল প্রদানের উদ্যোগ।
• বাসাবাড়ির ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ১০ টাকা ইউনিট দরে ক্রয়ের প্রজ্ঞাপন জারি।
• সবুজ বিদ্যুৎ প্রকল্প উৎসাহিত করতে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের আধুনিক যন্ত্রাংশ আমদানিতে টানা ১৮০ দিন সব ধরনের শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ মওকুফের ঘোষণা।
• আমিনবাজারে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
• উর্বর মাটির সুরক্ষা নিশ্চিতে কৃষিজমির বদলে নদী ড্রেজিংয়ের পলিমাটি দিয়ে পরিবেশবান্ধব আধুনিক ইট তৈরির প্রকল্পে অর্থায়ন।
• নদীভাঙন রোধ ও টেকসই বাঁধ সুরক্ষায় প্রাকৃতিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী বিন্না ঘাস ব্যবহারের জাতীয় নির্দেশিকা ও কারিগরি কমিটি গঠন।
• সাভার চামড়া শিল্পনগরীর পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আধুনিক সংস্কারের উদ্যোগ।
• অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও অব্যবহৃত সরকারি জমি সম্পদকে বেসরকারি অংশীদারিত্বে লাভজনক রূপান্তরে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত।
• দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো নতুন করে সচল ও আধুনিকায়নে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তায় বিভিন্ন দেশের আগ্রহ প্রকাশ।
• কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে মোট ৫১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সারের সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু।
• অচল সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭% সুবিধার প্রস্তাব।
• দীর্ঘ ৬ মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড। পাশাপাশি বিভিন্ন বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ।

৫. আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য

• রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকি আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সর্বাধুনিক বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা।
• বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আধুনিক আন্তর্জাতিক করপোরেট ব্যবস্থাপনা মডেলে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত।
• তৃণমূলের কিডনি রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সুলভে আধুনিক ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
• বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১,৮০০ তে উন্নীতকরণের উদ্যোগ।
• অগ্নিদগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টার নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন।
• দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা ও রোগীদের তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করতে ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম চালু্র পরিকল্পনা গ্রহণ।
• তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিকে জরুরি ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ পুনর্বহাল।
• সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে বিগত পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সারাদেশে মোট ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার শিশুকে সফলভাবে হাম রুবেলার টিকা প্রদান।
• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা স্থাপনের জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান।
• চট্টগ্রামের উপকূলীয় পতেঙ্গা এলাকার তীব্র সংকট নিরসনে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ।
• ডেঙ্গু মহামারির প্রকোপ রুখতে হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ড প্রস্তুতের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমন্বিত তিন মাসের দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু।
• জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও তরুণদের ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সর্বনিম্ন স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ।
• জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নীতিমালার ফলে বিগত ছয় মাসে সরকারের গুদামে অতিরিক্ত দেড় লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত বৃদ্ধি।

৬. স্মার্ট ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামো

• ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা সম্পন্ন।
• ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চার লেনের নিরবচ্ছিন্ন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ।
• ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন বর্ধিত করা হচ্ছে।
• মহাসড়কে কোনো যানজট ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিতে আগামী চার মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস স্বয়ংক্রিয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ টোল ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা প্রদান।
• ঢাকা শহরের তীব্র যানজট নিরসনে কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার গাবতলীতে এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল আধুনিক কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান।
• দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ডিজিটাল নিবন্ধন, বারকোড কিউআর ট্র্যাকিং এবং গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ।
• যাত্রাবাড়ী গুলিস্তান ফ্লাইওভারের দীর্ঘস্থায়ী ট্র্যাফিক জট নিরসনে বুয়েটের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশ আহ্বান।
• ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অংশীজনদের সমন্বয়ে ১৫ দিন পর পর সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত।
• মহাসড়কে যেকোনো দুর্ঘটনায় গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর সার্বক্ষণিক আধুনিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক স্থাপন।
• দূষণমুক্ত সবুজ নগরী গড়তে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য দ্রুতগতির সুপারচার্জিং স্টেশন এবং ব্যবহৃত ব্যাটারি রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ।
• বায়ুদূষণ রোধে ফিটনেসবিহীন ও বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্র্যাফিক পুলিশের নিয়মিত বিশেষ ড্রাইভ।
• দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ময়লা পরিষ্কারে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে পড়ে থাকা শত শত টন নোংরা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ অভিযান।
• রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদী খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নাব্যতা ফিরিয়ে বৃত্তাকার নৌপথের মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন।

৭. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক

• জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদী সংগঠনের গণহত্যাকারীদের সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় প্রদান। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৫ জনের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ “জুলাই ফাউন্ডেশন” বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
• মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কর্তৃক জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী ৭৪ জন শহীদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চাকরির স্থায়ী নিয়োগপত্র প্রদান।
• দীর্ঘদিন পর সরকারি ও বিরোধী দলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত, কার্যকর ও প্রাণচঞ্চল জাতীয় সংসদ অধিবেশন পরিচালনা।
• মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর সংসদীয় নজরদারি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ও নিয়মিত বৈঠক বাধ্যতামূলকের উদ্যোগ।
• সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগে ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত।
• সাধারণ নাগরিকের সকল সেবা, ভোটিং ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা এক ছাতার নিচে আনতে ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম চলমান।
• পুলিশকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রথম ধাপে ৬৪ জেলা সদরের থানাকে শতভাগ ‘জিরো কমপ্লেইন্ট’ আধুনিক সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ।
• মাদকের ভয়াল আগ্রাসন ঠেকাতে বিচারাধীন মামলাগুলো রেকর্ড সময়ে নিষ্পত্তিতে দেশজুড়ে ২২টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
• সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পর্যারক্রমে চালু হচ্ছে বায়োমেট্রিক হাজিরা
• স্মার্ট লজিস্টিক্সে মাত্র দুই মাসে রেকর্ড ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করেছে ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’, দেশজুড়ে ৯ হাজার ডাকঘরের আধুনিকায়ন চলমান।
• আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সুরক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে ২০২৭ এর মধ্যে ৩য় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হয়ে নতুন ৩৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত করার রূপরেখা প্রণয়ন।
• ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া পর্বতসম বোঝা কাঁধে নিয়েও ৫ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বা ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা সফল পরিশোধ।
• বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র বিশ্ববাজারের চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রানীতিতে ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ যার মোট পরিমাণ ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার।
• মালোয়েশিয়ায় শ্রম বাজার উন্মুক্ত হলে শুরু থেকেই ও পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে ১০ হাজার দক্ষ কর্মী প্রেরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মালোয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ।
• ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতি বছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিভাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি।
• ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন করে আরও ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর দ্বিপাক্ষিক-চুক্তির বিষয়ে অগ্রসর হবার উদ্যোগ।
• ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত রপ্তানির বাজার ধরে রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি এবং ইইউর চিহ্নিত ৬১টি বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সফল সমাধান।
• বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উন্নয়ন চুক্তি অনুমোদন।
• যুক্তরাজ্যের ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের আওতায় বাংলাদেশের জরুরি অবকাঠামো উন্নয়ন ও পণ্য ক্রয়ে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত সহজ ঋণ অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ।
• আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্ব ও জনকূটনীতির উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালের জনগণের জন্য ১ মিলিয়ন ডলারের জরুরি মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রেরণ।
• আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে চীন থেকে ২০টি সর্বাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের জে ১০সিই সুপারসনিক যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু।
• স্মার্ট সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিকে নিজস্ব নজরদারি ড্রোনে সজ্জিতকরণ এবং সিলেটে বিশেষায়িত ড্রোন ওয়ারফেয়ার ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা।
• ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার্থে ঢাকা সিউল সরাসরি নিয়মিত ফ্লাইট চালুর আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু।
• নাগরিকদের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক চলাফেরার সুবিধার্থে বার্ষিক বৈধ ট্রাভেল কোটার পরিমাণ বৃদ্ধি করে মাথাপিছু ১৮ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক মাসে বাস্তবায়িত ও গৃহীত এই কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণের চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করাসহ প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। এই সাফল্যগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, স্বাবলম্বী ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আসুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের এই গণমুখী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির এই ধারাবাহিকতাকে আরও বেগবান করি।

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়ত কিছুটা দুরূহ, তবে বর্তমান নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছা আজ প্রতিটি পদক্ষেপে দৃশ্যমান। দল-মত ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলি- যেখানে সরকারের মূল লক্ষ্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সেটিই হবে পাথেয়।

এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করার জন্য আবারো ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জনাব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব জনাব আতিকুর রহমান রুমন, প্রেস টিমের সদস্যবৃন্দ জনাব এস এ এম মাহফুজুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, জনাব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোঃ সুজন মাহমুদ, জনাবা আশরোফা ইমদাদ, জনাব কে এম নাজমুল হক, জনাব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামির, আমার দপ্তরের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর জনাব তারিকুল ইসলামসহ সবাইকে।

আসসালামু আলাইকুম।

মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution